1. admin@sobsomoyerkhobor.com : admin :
প্রতি মাসে মাসোহারা পেলেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ‘বৈধ’ – সব সময়ের খবর
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
কুমিল্লা মেঘনা উপজেলা ছাত্রলীগ লুটেরচর ইউনিয়ন শাখার কর্মী সভা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী’র ৫৯ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ’র শ্রদ্ধা নিবেদন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রাইভেট কার চাপায় নিহত বিএনপির সমাবেশে জড়ো হচ্ছেন নেতাকর্মীরা কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হলেন জনাব কাইয়ুম হোসাইন। ১ কোটি ২০লক্ষ টাকা মুল্যের কোষ্টি পাথর উদ্ধার করেছে জেলার শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসারঃ তালা মার্কার জয় নিশ্চিত করতে ভাইস চেয়ারম্যান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সহ অনেকেই। ডামুড্যায় পূজা মন্ডপের নিরাপত্তায় বিট পুলিশিং সভা ইতালির ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি!

প্রতি মাসে মাসোহারা পেলেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ‘বৈধ’

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৬ মার্চ, ২০২২
  • ৬৬ বার পঠিত

প্রতি মাসে মাসোহারা পেলেই ব্যাটারিচালিত রিকশা ‘বৈধ’

বিশেষ প্রতিনিধিঃপ্যাডেলচালিত রিকশা-ভ্যানের সঙ্গে মোটর যুক্ত করে তাকে বানানো হয়েছে অটোরিকশা, অটোভ্যান। বিদ্যুতে চার্জ হওয়া এসব অটোরিকশা, অটোভ্যান ও ইজিবাইক এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো রাজধানীতে।

২০১৭ সালে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে বিভিন্ন অলিতে-গলিতে এখনো চলছে এসব ব্যাটারিচালিত রিকশা। আর এসব অটোরিকশায় চড়ে প্রায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে সারাজীবনের জন্য কেউ হচ্ছেন পঙ্গু, কেউ হারাচ্ছেন প্রাণ।

সচেতন যাত্রীমহলের অভিযোগ, পুলিশ, ট্রাফিক বা হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এসব যানবাহন গলি থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়কে চলছে। তারা বলছেন, সড়ক-মহাসড়ককে ৩ চাকার বাহন মুক্ত রাখতে হলে কঠোর নজরদারির দরকার। এদিকে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ বলছে, দায়িত্বে কোনো অবহেলা নেই। বেশিরভাগ সময় চালকরা পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে মহাসড়কে গাড়ি চালান।

নাম প্রকাশ প্রকাশে অনিচ্ছুক অটোরিকশার চালক ও মালিকরা বলছেন, বিধি অনুযায়ী অবৈধ হলেও রাস্তায় চলতে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। কারণ একদিকে যেমন এলাকার নেতাদের ম্যানেজ করে চলেন, তেমনি সড়কে তাদের বিরুদ্ধে যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা, সেই পুলিশকে তারা ম্যানেজ করে চলেন।

অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হলে স্থানীয় নেতা ও পুলিশ উভয় পক্ষই বড় অঙ্কের মাসোহারা হারাবে। এ কারণে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করার রাস্তা সহজ নয়।
সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত প্যাডেলচালিত রিকশার পরিসংখ্যান আছে। তাতে দেখা যায়, রাজধানীতে প্যাডেলচালিত বৈধ রিকশার চেয়ে অবৈধ রিকশা প্রায় ১০ গুণ বেশি। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তথ্যমতে, তাদের কাছে নিবন্ধিত রিকশার সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজার।

আর দক্ষিণ সিটিতে সেই সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজার। দুই সিটি মিলিয়ে বৈধ রিকশা ৭৯ হাজার ৫৪৭টি।
তবে, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) একটি গবেষণা বলছে, রাজধানীতে চলাচলকারী রিকশার সংখ্যা ১১ লাখের বেশি। এরমধ্যে প্রায় ১০ লাখই অবৈধ।

সরেজমিনে রাজধানীর মুগদা, মান্ডা, বাসাবো, হাজারীবাগ, জিগাতলা, কামরাঙ্গীরচর, দক্ষিণখান, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও, বাড্ডা, জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, মানিকনগর , শনির আখড়া, ডেমরা, বাসাবো ও মাদারটেকসহ রাজধানীর ছোট বড় প্রায় ৫০টি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেক এলাকায়ই ব্যাটারিচালিত রিকশার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। বিভিন্ন এলাকার রিকশাচালক ও মালিকদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এই সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সের প্রফেসর দীলিপ দত্ত সাংবাদিকদের বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারির এসিড, সিসা পরিবেশের চেয়ে মানবদেহের জন্য বেশি ক্ষতিকর। এতে থাকে সালফিউরিক এসিডসহ অন্যান্য রাসায়নিক সিসা। এসব সিসা বাষ্পীভূত হয়ে বাতাসে ছড়িয়ে থাকে। এই উপাদান মানুষের মস্তিষ্কের বেশি ক্ষতি করে। এর প্রভাবে মানুষ প্রতিবন্ধী হয়ে পড়তে পারেন। আবার মানুষের ক্যানসারও হতে পারে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসব অটোরিকশার চালক ও মালিকদের কাছ থেকে মাসোহারা তোলা হয় নিয়মিত। প্রতি মাসে এর পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত।

সে হিসাবে বছরে আড়াই থেকে সাড়ে তিনশ কোটি টাকা চাঁদা দিয়ে থাকেন অটোরিকশার চালক-মালিকরা! অভিযোগ রয়েছে, এসব টাকার ভাগ স্থানীয় নামধারী কিছু নেতাকর্মী ও থানা পুলিশের মধ্যে ‘ভাগ-বাটোয়ারা’ হয়। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের উৎস সহজে বন্ধ করতে রাজি নন কেউ। ফলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাজধানীর রাজপথে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা।

নাম প্রকাশ প্রকাশে অনিচ্ছুক চালক-মালিকরা বলছেন, অটোরিকশা চালানোর জন্য প্রতিটি এলাকাতেই সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা আছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের যৌথ উদ্যোগে লাইনম্যানদের মাধ্যমে প্রতিটি রিকশার জন্য একটি করে কার্ড ইস্যু করা হয়। এই কার্ডে উল্লেখ থাকে, কোন অটোরিকশা কোন এলাকা পর্যন্ত চলতে পারবে।

আর এই কার্ডের জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা করে দিতে হয় লাইনম্যানকে। এই টাকা না দিলে নির্ধারিত এলাকার মধ্যে অটোরিকশা চালানো সম্ভব হয় না। অন্যদিকে কোনো অটোরিকশা কার্ডে উল্লেখ করা এলাকার বাইরে গেলে সেটি ধরা পড়লে আবার ট্রাফিক পুলিশকে ‘খুশি করে’ গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে হয়। তাতে একেকবার খরচ সর্বনিম্ন দুই শত টাকা থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত পড়ে।

মান্ডা এলাকার রিকশা মালিক আবদুল হোসেন বলেন, ‘রিকশা থেকে চলাচলে অটোরিকশা সময় সাশ্রয়ী। রিকশা ও সিএনজি থেকে ভাড়াও কম। একসঙ্গে বেশি মানুষ যাতায়াত করতে পারেন। অল্প টাকায় বেশি দূরত্বে যাতায়াত করা সম্ভব। সেইসঙ্গে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িতদের অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে ব্যাপক ভাবে। চালকরাও হচ্ছেন সাবলম্বী। পাশাপাশি রিকশা চালানোর মতো কঠিন কায়িক পরিশ্রম থেকে ইজিবাইক চালানো খুবই সহজ।’

ডেমরার কোনাপাড়ার এলাকার অটোরিকশাচালক আনিস বলেন, ‘স্থানীয় নেতা-কর্মীদের দৈনিক চাঁদা দিতে হয়। যা মাস শেষে ২ হাজার টাকা। প্রায় আড়াই বছর ধরে এভাবে অটোরিকশা চালাচ্ছি।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারে পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, ‘মহাসড়কে দ্রুত ও ধীরগতির বাহন একসঙ্গে চলাচলই দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কে যদি বিভিন্ন গতির যানবাহন একসঙ্গে চলে আর সেগুলোর মধ্যে যদি গতির পার্থক্য বেশি হয়, তাহলে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেড়ে যায়।

তবে, নগর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নির্দেশনার পর এসব অটোরিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইক মালিক শ্রমিকদের কিছুটা সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মালিক শ্রমিকরা অযান্ত্রিক যে বাহনকে যান্ত্রিক বাহনে রূপ নিয়েছেন, তা পুনরায় অযান্ত্রিক বাহনে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও মুখপাত্র আবু নাছের গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মোটর বা ইঞ্জিন সংযোজন করে যেসব অযান্ত্রিক বাহনকে ইঞ্জিনচালিত বাহনে রূপান্তর করা হয়েছে, সেগুলো একটি গণ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা অয

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ © সব সময়ের খবর ©
Theme Customized By Shakil IT Park